Monday, 15/1/2018 | 6:37 UTC+0
You are here:  / জাতীয় / বিশেষ প্রতিবেদন / আয়কর মেলা আয়োজন নিঃসন্দেহে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের একটি ইতিবাচক এবং উৎসাহব্যঞ্জক কার্যক্রম।

আয়কর মেলা আয়োজন নিঃসন্দেহে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের একটি ইতিবাচক এবং উৎসাহব্যঞ্জক কার্যক্রম।

বাংলাদেশে কর আহরণ সংস্কৃতি যে পর্যায়ে রয়েছে, তাতে দেখা যায় বহু লোক এখনো কর প্রদানের ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে উঠতে পারেননি, আয়কর বিভাগের তরফ থেকে সব করদাতার কাছে পৌঁছানোর পথ এখনো অনেক বাকি। অবশ্য অনেকের অনাগ্রহের কিছু কারণও রয়েছে। এখনো অনেকের মধ্যে কর এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা রয়েছে, রয়েছে আইন ও পদ্ধতিগত জটিলতা সংস্কারের অবকাশ। করমেলা আয়োজনের মাধ্যমে কর প্রদানের রীতি-নীতি ও পদ্ধতি যদি করদাতাদের সহজে জানানো যায় এবং করদাতা ও আহরণকারীর মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হয়, তাহলে মানুষের মধ্যে কর প্রদানে দায়িত্বশীলতা, সচেতনতা ও আগ্রহ যেমন বৃদ্ধি পাবে, তেমনি তাঁরা কর দেয়ার ক্ষেত্রে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন। অনেকেই মনে করেন অনলাইনে কর দেয়ার ব্যবস্থা চালু হলে বিষয়টি আরো সহজ হয়ে যাবে। কিন্তু এটি যতক্ষণ না হচ্ছে, ততক্ষণ করমেলা আয়োজন কর বিভাগ এবং আগ্রহী করদাতাদের মধ্যে সহজ যোগাযোগের একটি সুযোগ উপস্থাপন করে। করমেলা আয়োজন উপলক্ষে বছরের সেরা করদাতা, কর বাহাদুর পরিবার, বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সেবা করদাতাদের সম্মাননা প্রদান করা উদ্যোগটিও দিন দিন আরো সৌন্দর্য ও সাফল্যমণ্ডিত হচ্ছে। কর প্রদানকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করার কাজে এ উদ্যোগ সফলতার মুখ দেখবে, দেখতে শুরু করেছে।
করমেলা আয়োজনের মাধ্যমে করসচেতনতার ব্যাপ্তি বাড়ছে, তবে করমেলা আয়োজনের উদ্দেশ্য পূরণের কার্যকর অগ্রগতি পর্যালোচনার অবকাশ থেকেই যাচ্ছে। ২০০৮ সালে করমেলা আয়োজনের যখন প্রথম উদ্যোগ নেয়া হয়, তখন টার্গেট ছিলেন দুর্গম, দূরবর্তী এবং উঠতি অর্থনৈতিক অঞ্চলের করদাতারা, যারা কর অফিসে আসতে নানা সীমাবদ্ধতায় কর প্রদানে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন বা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না কিংবা কর অফিস থেকে যাদের নিয়মিত পরিবীক্ষণ পরিদর্শন সহজতর নয়। অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল করদাতার দোরগোড়ায় উভয় পক্ষের সম্মেলন ঘটানো। স্বাভাবিকভাবেই কর অফিসগুলো সাধারণত বড় ও মফস্বল শহরে অবস্থিত। আর ওই অঞ্চলের পটেনশিয়াল করদাতাদের অনেকেই এবং তাদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড জেলা কর অফিস থেকেও যথেষ্ট দূরে। দূরবর্তী অঞ্চলে যে উঠতি ও নীরব করদাতা রয়েছেন, তাদের জন্য উপজেলা পর্যায়ে একটি নির্দিষ্ট তারিখে কর অফিসের কর্মকর্তারা উপস্থিতি হয়ে কর সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য জানাবেন। যাতে তারা উৎসবমুখর পরিবেশে স্বাচ্ছন্দ্যে কর প্রদান করতে পারেন, পদ্ধতি সম্পর্কে অবহিত ও প্রশিক্ষিত হতে পারেন।
তাই করমেলা সব উপজেলা পর্যায়ে না হয়ে বড় শহর, যেমন— ঢাকাসহ বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে ঘটা করে আয়োজনের মধ্যে ওই প্রত্যাশা যেন হারিয়ে না যায়। মধ্যবিত্ত থেকে শুরু করে উচ্চবিত্ত শ্রেণীর অনেকেই আগ্রহী হয়ে এখন এ মেলাতেই কর প্রদান করছেন। আরেকটা বিষয় বিশেষভাবে লক্ষণীয়— করমেলা হচ্ছে বিভিন্ন ব্যক্তিশ্রেণীর করদাতার জন্য, এখানে করপোরেট এবং কোম্পানির কর প্রদান ব্যবস্থা নেই, সম্ভবও নয়। এখন দেখতে হবে এ ব্যক্তিশ্রেণীর করদাতারা কোন পর্যায় রয়েছেন। সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর প্রদান এরই মধ্যে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। রয়েছেন কোম্পানিভুক্ত নন, এমন ব্যবসায়-বাণিজ্যে ব্যাপৃত ব্যক্তিরা ও আয়বর্ধক বিভিন্ন স্থাবর-অস্থাবর অবকাঠামোর মালিক। এখনো এমন অনেকে আছেন, যাদের ব্যাংকে অনেকগুলো হিসাব খোলা রয়েছে, কিন্তু কর বিভাগের খাতায় তাদের নাম নেই। অর্থাৎ তাদের ই-টিআইএন নেই। দুই বছর ধরে দেখা যাচ্ছে, পর্যায়ক্রমে নতুন জেলা ও উপজেলায় করমেলা আয়োজনের পুনঃউদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। নতুন জেলা ও উপজেলায় করমেলা আয়োজনের ওপর জোর দিতে হবে। এছাড়া বড় বড় শহরে বছরে একবার বড় পরিসরে মেলা আয়োজন ছাড়াও বছরজুড়ে করদাতারা যেন কর অফিসে গিয়ে কর প্রদানের সময় করমেলার মতো উপযুক্ত পরিবেশ পেতে পারেন, সে ব্যবস্থা করতে হবে। তাহলেই করমেলা আয়োজনের উদ্দেশ্য টেকসই ভিত্তি পাবে। করমেলায় বেশি ভিড় হওয়ার নেপথ্যে এটাও একটা কারণ কিনা যে, কর প্রদানে আগ্রহীরা কর অফিসে না গিয়ে করমেলায় আসতে আগ্রহী হচ্ছেন। এটা থেকেও তা যাচাইয়ের তাগিদ আসছে— প্রত্যেকটা কর অঞ্চলে যে তথ্য ও সেবাকেন্দ্র খোলা হয়েছিল বা রয়েছে, সেগুলোর কার্যকারিতা আছে কিনা। করদাতার কাছাকাছি যাওয়ার যে উদ্যোগগুলো করমেলায় করা হচ্ছে, তার অনুরূপ অবস্থাও কর অফিসে থাকা দরকার। তাহলেই মানুষের কাছাকাছি যাওয়ার উদ্দেশ্য পূরণ হবে, টেকসই হবে। এছাড়া নতুন যে করদাতা মেলায় এসে কর প্রদানের পদ্ধতিগুলো শিখে কর জমা দিয়ে যাচ্ছেন, পরের বছর তিনি যদি করমেলায় না এসেই তার কর জমা দিতে পারেন, তাহলে বলব এটি হবে করমেলা আয়োজনের অন্যতম স্বার্থকতা।
প্রতি বছরই করহার, হিসাবায়নের রীতি-পদ্ধতি নিয়ম ও সুযোগ-সুবিধার পরিবর্তন-প্রতিস্থাপনের কারণে করদাতাকে নতুন করে জানতে ও শিখতে আসতে হয় করমেলায়। কর দেয়ার পদ্ধতিটাকে যদি সহনশীল ও টেকসই করতে হয়, তাহলে বারবার করের হার হ্রাস-বৃদ্ধি ও সুযোগ-সুবিধার হিসাব-নিকাশ পদ্ধতি পরিবর্তন করা ঠিক নয়। কর আইনের ধারা-উপধারায় ঘনঘন পরিবর্তন আনা হলে করদাতাদের এবং কর আইন প্রয়োগকারী উভয় পক্ষেরই তা অনুসরণ ও প্রয়োগে গলদ্ঘর্ম হতে হয়। এ অবস্থায় তৃতীয় কোনো পেশাজীবীর পরামর্শ নেয়ার মাত্রা বেড়ে যায়। অন্য একটি জটিল বিষয় হচ্ছে, প্রতি বছর জুনে বাজেটের সঙ্গে রাজস্ব আইনের পরিবর্তন চেয়ে একটি অর্থ বিল দেয়া হয়। অর্থ বিলে নতুন ধারা সংযোজন-বিয়োজনের অনুমোদন চাওয়া হয় এবং তা অবিলম্বে কার্যকর হয়। ধরা যাক সঞ্চয় ও বিনিয়োগের ওপর করের হার বা রেয়াতের পরিমাণ পরিবর্তন হলো। করদাতা যখন পরবর্তী অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর মাসে রিটার্ন জমা দিচ্ছেন, তখন নতুন নির্ধারিত হারেই তাকে আগের অর্থবছরের কর দিতে হচ্ছে। বিগত করবছরে তিনি যখন বিনিয়োগ ও সঞ্চয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তখন কিন্তু এ হার পরিবর্তনের বিষয়টি তিনি অবহিত ছিলেন না, থাকলে সঞ্চয় সম্পর্কে প্রদত্ত সুযোগ-সুবিধা কিংবা প্রয়োগ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিতে উদ্বুদ্ধ হতেন। করের পরিমাণ নির্ধারণ ও প্রদানের বিষয়টি অনিশ্চয়তায় থাকলে কর প্রয়োগ, প্রক্রিয়া ও হিসাবায়নের ক্ষেত্রে জটিলতার উদ্ভব হওয়া স্বাভাবিক। এক্ষেত্রে করদাতাকে একই সঙ্গে প্রশিক্ষিত, উৎসাহিত, অবহিত ও বর্ধিত কর প্রদানে শামিল করা যায় না। প্রতি বছর অর্থবিলের মাধ্যমে কর আইনে অনেক বেশি পরিবর্তন আনা হয়, এসব অনুসরণে করদাতারা কেন, কর অফিসারও অসুবিধায় পড়েন। উভয়পক্ষে সমন্বয় ও ভারসাম্য রাখতে পারা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। প্রতি বছর অর্থবিধিতে এত পরিবর্তন আনা হয় যে, ওই পরিবর্তনের ভিত্তিতে একটি ব্যাখ্যামূলক বড় পরিপত্র (পরিপত্র-১) এনবিআরকে জারি করতে হয়। আর এটি জারি করতে বেশ সময়ক্ষেপণ হয়। সেপ্টেম্বরের কর জমা দেয়ার সময়সীমাকে ইদানীং নভেম্বরে নিয়ে যাওয়ার সম্ভাব্য তিনটি কারণ। এক. কর পরিপত্র জারি করতে গিয়ে সেপ্টেম্বর মাস চলে আসে। জুনের প্রথম সপ্তাহে অর্থবিধি জারি করা হলে তার ব্যাখ্যামূলক পরিপত্রটি জারি করতে এত সময় লাগবে কেন! এটি যদি জুলাইয়ের মধ্যে দেয়া যায়, তাহলে সেপ্টেম্বরে কর দেয়া সম্ভব হয়। দুই. সেপ্টেম্বরে ঝড়-বৃষ্টির কারণে সবাই ঠিকমতো কর দিতে পারে না। এটি খুব একটা যৌক্তিক কারণ হতে পারে না। ঝড়-বৃষ্টি, উৎসব উদযাপন সারা বছরই থাকতে পারে। তিন. নভেম্বরে করমেলা করতে কর নিতে দিতে সবাই সময় পেল ঠিকই, কিন্তু অর্থবছর শেষ হওয়ার পর পূর্ববর্তী অর্থবছরের আয়ের ওপর কর আহরণে পাঁচ মাস পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকায় সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় যে টানাপড়েন সৃষ্টি হয় তা বিবেচনাযোগ্য।
কর রাজস্বসংক্রান্ত আইন-কানুন ও পদ্ধতিগত সংস্কারগুলোর ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করে দেখতে হবে যে, কর জমা দেয়ার প্রক্রিয়াকে করদাতারা এখনো কেন জটিল মনে করছেন? কেন কর প্রদানের ক্ষেত্রে মানুষ করমেলা ঘিরে আগ্রহী হচ্ছেন? কারণ করমেলায় সব প্রশ্নের উত্তর ও ব্যাখ্যা সহজে পাওয়া যাচ্ছে। আমরা করমেলার গুরুত্বকে কম করে দেখতে পারি না এজন্য যে, করমেলা থেকে যে উপযোগিতা আসছে, তা অনুধাবন করা দরকার। করমেলা শুধু ব্যক্তিকরদাতাদের নিয়ে। যারা বার্ষিক মোট করের বড় জোর মাত্র ৩০ শতাংশ। অন্যদিকে করপোরেট কর, যা মোট করের ৭০ শতাংশ। মাত্র ৩০ শতাংশ ব্যক্তিকরদাতাদের করজালে আনতে বিপুল ব্যয়ে এত বড় করমেলার আয়োজন, সেখানে বিপুল লোকবল, সময় ও সুযোগ-সুবিধার সমাহার ঘটানো। প্রশ্ন উঠতে পারে করপোরেট ও বড় করদাতাদের ট্যাক্স কমপ্লায়েন্স দেখার বা কাজের মনোযোগ থেকে সময় ও সক্ষমতাকে এখানে এনে বিনিয়োগ করা হচ্ছে কিনা। এ আয়োজন ঘিরেও কোনো কোনো মহল থেকে কথা উঠেছে যে, করমেলায় সবাই এসে তাড়াহুড়া করে কর জমা দিয়ে যাচ্ছে। যার মাধ্যমে সঠিকভাবে কর রিটার্ন জমার বিষয়টি যাচাইয়ের সুযোগ থাকছে না। এভাবে রিটার্ন জমা নেয়ায় উপদেষ্টাদের কাছ থেকে সহায়তা চাওয়া-পাওয়ার পরিমাণ কমে যাচ্ছে। এ অবস্থায় করমেলায় সহজে কর জমা দেয়ার বিষয়টিকে অনেকে অন্যভাবে ব্যাখ্যা করার সুযোগ নিচ্ছে, যা নিয়ে ভাবার প্রয়োজন রয়েছে। গত দুই বছরে এমন অনেক অনুযোগ আছে যে, করমেলায় কর প্রদানের পরও পরবর্তীতে ওই করদাতাকে কর অফিসে ডেকে পাঠানো হয়েছে। তাকে নতুন করে কর অফিসে আসতে বলা হচ্ছে। একদিকে করমেলায় মানুষকে তাত্ক্ষণিকভাবে কর জমা দিতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। পরবর্তীতে আবার তাকে প্রশ্ন করার জন্য ডাকতে হচ্ছে। এ দৃষ্টিতে করমেলার উদ্দেশ্যগুলোকে বারবার বিশ্লেষণে নিতে হবে। কর প্রদানের ক্ষেত্রে প্রতি বছরই নতুন নতুন পরিবর্তন আনা হচ্ছে বলে জটিলতা বাড়ছে। অনেকেই বলছেন, কোনো আর্থিক আইন জারি করলে সর্বনিম্ন পাঁচ-সাত বছর তা বহাল থাকা উচিত। তাহলে সবাই আইনটি সম্পর্কে অবগত থাকবেন, অনুসরণে উৎসাহী হবেন, আয়-ব্যয় বিনিয়োগে সিদ্ধান্ত গ্রহণে হিসাবি হতে পারবেন। প্রতি বছর যদি করের হার, হিসাবায়নের সূত্র এবং কর রেয়াতের সুযোগ-সুবিধা পরিবর্তন করা হয়, তাহলে করদাতারা সেসবের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারবেন না। ফলে এড়িয়ে চলার পথ খুঁজতে বাধ্য হবেন।
করমেলা থেকে কতটা আয়কর আদায় হবে বা হয়েছে, তা নিয়ে এক ধরনের আত্মতুষ্টিমূলক ধারণা প্রচারের চেয়ে করমেলার সাফল্য বিচার-বিশ্লেষণ করা উচিত। বিষয়টি এমন নয় যে, করমেলা হচ্ছে বিধায় কর বাড়ছে। বরং দেখতে হবে, কতজন নতুন ই-টিআইএন নিয়েছেন, এ বছর কয়জন নতুন করদাতা যোগ হলো এবং তাদের জমা দেয়া করের পরিমাণ কত, তাদের জিজ্ঞাস্যের প্রকৃতি কেমন?। দীর্ঘদিন ধরে নতুন আয়কর আইন হবে বলে বলা হচ্ছে। এখনো ১৯৮৪ সালের ইনকাম ট্যাক্স অর্ডিন্যান্স অনুসারে চলছে সবকিছু। এটা কিন্তু আইন নয়, একটা অধ্যাদেশ। যাকে অনেকে ব্রিটিশ আইনটির রেপ্লিকা বলে থাকেন এবং যা বর্তমানের এই বাংলাদেশের জন্য যথাযথ নয়। নব্বইয়ের দশক থেকে বাংলাদেশের ব্যবসা, বাণিজ্যে অংশগ্রহণ থেকে শুরু করে মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ব্যাপ্তি বেড়েছে। এ পর্যায়ে পুরনো আয়কর আইন-কানুন রীতি-পদ্ধতি প্রয়োগ চলে না। পুরনো এ আইন দিয়ে মুক্ত বাজার অর্থনীতির মানুষের কর নির্ধারণ ও আদায়ের উপায়গুলোকে খুব সহজ বা যুগোপযোগী করা যাচ্ছে না। ১৯৯০ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রায়ই নতুন আয়কর আইন নিয়ে কথা বলা হচ্ছে, কিন্তু সংসদে এটা নিয়ে কোনো আলোচনা হচ্ছে না। অথচ এ জাতীয় আর্থিক আইন পাসে সংসদের এখতিয়ার ও দায়িত্ব বেশি। প্রতিবারই মনে হয় একটা খসড়া আইন করা হচ্ছে, যা কার্যকর হচ্ছে না। এটা না করে ভবিষ্যতের কথা ভেবে কার্যকর পরিকল্পনা করে আইন তৈরি করতে হবে এবং দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। তাহলেই প্রত্যাশা পূরণ হবে। যেমন ভ্যাট আইন। সাধারণ মানুষের আশঙ্কা থাকছে যে, তারা যে ভ্যাট প্রদান করছেন, তা সরকারের কাছে পৌঁছাচ্ছে কিনা কিংবা ব্যবসায়ীরা এখানে স্বচ্ছতা ধরে রাখছেন কিনা। এ বিষয়গুলো স্পষ্ট করতেই ছিল ভ্যাট আইনের সংস্কার। কিন্তু সংস্কারকৃত এ আইন প্রবর্তন করতে গিয়ে অনেক সময়ক্ষেপণ করার মানে হচ্ছে, জনগণকে এ আইনের আওতায় আনয়নযোগ্য সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা এবং তাদেরকে আরো বেশি অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। যেকোনো আইনের সংস্কার সবসময় জনস্বার্থেই হতে হয়। ২০১২ সালে ভ্যাট আইনের সংস্কার করা হয়, কিন্তু এখনো আইনটি পুরোপুরি প্রবর্তন করা যায়নি। এক্ষেত্রে সরকার ব্যবসায়ীদের আপত্তি ও পরামর্শ শোনার অপেক্ষায়, কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছ থেকে নেয়া ভ্যাট সংস্কার অনুযায়ী জমা করার কার্যকর কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না। তাছাড়া চূড়ান্তভাবে আইনের প্রবর্তন না হওয়ায় আইন প্রণয়নের উদ্দেশ্য ব্যাহত হতে চলেছে। সুতরাং আর্থিক আইন কিংবা সংস্কারধর্মী আইন একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে যথাযথ দ্রুততার সঙ্গে প্রণয়ন ও প্রবর্তন করতে হয়। আইন জারি করে যদি মতামত নিতে যাওয়া হয়, তখন যাদের স্বার্থে কিছুটা আঘাত লাগবে, তারা বিভিন্নভাবে মতামত ও আপত্তি দেয়ার নামে তা রোধ করতে চাইবে।
চলতি বছর অর্থবিধিতে আয়কর আইনে সত্তরের অধিক সংশোধনী আনা হয়েছে। ভ্যাট আইনের ক্ষেত্রেও তাই। তার মানে প্রায় প্রতিটি ধাপ বা ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা হয়েছে। আইনে যে পরিবর্তন আনা হয়েছে, সে সম্পর্কে অধিকাংশ করদাতা অবগত নন। এছাড়া যখন কোনো আইন প্রবর্তন করা হয়, তখন পরিবর্তিত আইনটি কতটা অনুসরণযোগ্য, তা তখনই দেখতে হবে। আইন প্রণয়নকারী নীতিনির্ধারক এবং আইনের প্রয়োগ বা বাস্তবায়নকারী দুটি আলাদা সত্তা থাকা উচিত। রাজস্ব আইন-কানুনে নীতিনির্ধারক নীতির কথা ভাববে। আর বাস্তবায়নকারী আইনটি প্রযোজ্য বা কার্যকরের জন্য দায়ী ও দায়িত্বশীল থাকবে। বাস্তবায়নে অসুবিধা হবে মনে করে আইন বারবার পরিবর্তন করলে প্রবর্তনের মুখ্য উদ্দেশ্যই মাঠে মারা যায়।

LEAVE A REPLY

Your email address will not be published. Required fields are marked ( required )

thirteen − 6 =

The YCC News Japan

we will bring you the latest news from all over the world on Music, Atrists, Fashion, Musical events that you are looking for.

Find Us On Facebook

Contact Information

CHIBA-KEN MATSUDO-SHI
HON CHO 14-20
POST-COD: 271-0091, JAPAN.
Email : info@theyccnews.com
Mobile : 090-2646-7788
(IMO, WhatsApp, Viber, Tangu, Line)
Skype: ycc-masudo
Skype: ycclivetv.com
YCC JAPAN CO, LTD
Editor : Masud Ahmed