Sunday, 24/9/2017 | 6:41 UTC+0
You are here:  / অন্যান্য / বিনোদন / ফ্যাশন দুনিয়ায় পরিচিত নাম বিবি রাসেল

ফ্যাশন দুনিয়ায় পরিচিত নাম বিবি রাসেল

মডেল ও নকশাকার হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত তিনি। নানা পরিচয়ের পাশাপাশি চলচ্চিত্রের সঙ্গেও গড়ে তুলেছেন নিজের সখ্য। এমনকি তাকে নিয়ে একাধিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রও নির্মিত হয়েছে ভিনদেশে। এবার তিনি যুক্ত হতে যাচ্ছেন বাংলাদেশে নির্মিতব্য নতুন একটি চলচ্চিত্রে। ‘প্রীতিলতা’ নামের এ চলচ্চিত্রে কস্টিউম ডিজাইনার হিসেবে কাজ করবেন তিনি। গেল শুক্রবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘বাংলার প্রীতিলতা’ ওয়েবসাইটের উদ্বোধন ও আলোচনা সভায় অংশগ্রহণের পর ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে প্রীতিলতা ছবিতে তার সংশ্লিষ্টতা ও আরো নানা বিষয়ে টকিজের মুখোমুখি হলেন এ ফ্যাশন আইকন—
বেশ আগে থেকেই চলচ্চিত্রের সঙ্গে আপনি যুক্ত। ‘দ্বিতীয় পক্ষ’ ও ‘মনের মানুষ’ নামের দুটি ছবির কস্টিউম ডিজাইনার হিসেবেও কাজ করেছেন। বর্তমানে আরেকটি নতুন ছবির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। চলচ্চিত্রে সংশ্লিষ্ট হওয়ার পেছনে আপনি মূল আগ্রহটা কোথায় পান?
চলচ্চিত্র তো ভীষণ পছন্দের আমার, সেটা তো গেল একটা দিক। আর চলচ্চিত্রে মাঝে মধ্যে যুক্ত হওয়ার পেছনে যে জিনিস বেশি ভূমিকা রাখে, সেটি হলো আমার প্রিয় কিছু মানুষ। আমার পছন্দের তালিকায় এমন কিছু মানুষ আছেন, যারা আমাকে একটি কথা বললে কখনো আমি তা দুইবার ভাবি না। একবাক্যেই রাজি হয়ে যাই। বলতে পারেন, সেটি বিশ্বাস, নির্ভরতা ও ভালোবাসার কারণে। আমি এর আগে ‘দ্বিতীয় পক্ষ’ ও ‘মনের মানুষ’ নামে যে দুটি ছবিতে অভিনয় করেছি, তাতে কাজ করার পেছনেও এ কারণগুলো মুখ্য ছিল।
আর ‘প্রীতিলতা’ ছবিতে?
এ ছবির ক্ষেত্রেও ওই একই কথা, প্রিয় কিছু মানুষ। যেহেতু তাদের পক্ষ থেকে আমাকে এ ছবিতে কাজ করতে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে, সেহেতু এক্ষেত্রে আমি দ্বিতীয়বার ভাবিনি। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ আছে। সেটি হলো, এ চলচ্চিত্রের বিষয়ই যে স্বয়ং প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার। প্রীতিলতাকে নিয়ে এত বড় আয়োজন করে ছবি নির্মাণ হবে, আর আমি এতে কাজ করব না, এমনটা কি হয়!
প্রীতিলতাকে নিয়ে আপনার এ আগ্রহ কীভাবে তৈরি হলো?
আমি তো বেড়েই উঠেছি প্রীতিলতা পড়ে। আজ নিজেকে ‘আমি’ করে তুলতে যে সাহস, উত্সাহ আর উদ্দীপনা অর্জন করেছি, তা তো প্রীতিলতার কাছ থেকেই পেয়েছি। খেয়াল করলে দেখা যায়, প্রীতিলতার ছিল বিস্ময়ভরা দুটি চোখ, তিনি সোজা হয়ে হাঁটতেন। আজকাল আমরা দু’পা এগোতেই ভয় পাই। কোন পরিস্থিতিতে কী করব, দিশা খুঁজে পাই না। আমাদের নিজেদের মধ্যেই শান্তি নেই। সারাক্ষণ শুধু ছটপট ও ঝগড়া বিবাদ। আমরা মনে করি, এক ধাপেই সবকিছু উতরে যেতে পারব। অথচ সে সময়ে প্রীতিলতা মাত্র ২১ বছরের একটা মেয়ে, ছোট্ট এ জীবনে কত কিছুই না করেছেন, সাহস নিয়ে অস্ত্র হাতে নেতৃত্ব দিয়েছেন। সাহসী এ বীর নারীকে নিয়ে কাজ করতে পারাটাও ভাগ্যের বিষয়।

আপনার পথ চলায়ও নানা সংগ্রামের গল্প শুনতে পাওয়া যায়, তা থেকে কীভাবে উতরে ওঠেন?
চলার পথে প্রতিদিনই আমি প্রীতিলতার কথা চিন্তা করি। যতবার নিঃশ্বাস নিই, ততবারই সংগ্রামী এ নারীকে মনে করতে হয় আমাকে। কারণ এখনো এক পা এগোতে গেলে দশ পা পিছিয়ে দেয়ার জন্য অনেকেই আমাকে টেনে ধরে। ফলে টিকে থাকতে গেলে তো কারো না কারো কাছ থেকে সাহস-প্রেরণা নিতেই হয়। এক্ষেত্রে আমি ভাবি, প্রীতিলতা যদি ওই সময়ে এত কিছু করতে পারে, তাহলে আমি কেন পারব না। এটি ভেবেই আবার নতুন করে পথ চলতে শুরু করি। আর এখন তো আমাদের অনেক রকম সুবিধা, অত বাধা নেই। আজকাল যেসব নারী দারিদ্র্য থেকে উঠে আসছে, তারা কিন্তু মাথা উঁচু করেই দাঁড়াচ্ছে। কারণ এখন তো কেউ কারো গোলাম নই আমরা। ফলে এগিয়ে যাওয়ার পথটাও সোজা হয়ে গেছে।
নিজের সত্তায় প্রীতিলতাকে যেভাবে ধারণ করেন, সেটি চলচ্চিত্রে উঠিয়ে আনতে যা যা ভাবছেন—
প্রথমত. আমার ভেতরে প্রীতিলতার যে ছবি আঁকা আছে, যে যে কারণে তাকে আমি একজন আইকন হিসেবে দেখি, সেসব বিষয়কেই বেশি গুরুত্ব দেয়ার চেষ্টা করব। তবে এখন পর্যন্ত সব কাজ গুছিয়ে আনতে পারিনি। এখন আমি ছবিটির স্ক্রিপ্টটা পড়ছি।
আগের দুটি ছবিতে আপনি নাকি সরাসরি শুটিং স্পটে হাজির থেকেছেন, প্রীতিলতায়ও নাকি থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এমনটি কেন?
এটি আমার কাজের একটি ধরন। কোনো কাজ প্রস্তুত করার পর শেষ মুহূর্তে সেটি কেমন হলো, তা না দেখা পর্যন্ত আমার ভালো লাগে না। ‘দ্বিতীয় পক্ষ’ ও ‘মনের মানুষ’ ছবির সেটে এ কারণেই গিয়েছি। যে চিন্তা মনের ভেতর সাজাই, সেটির বহিঃপ্রকাশটা তো তেমনই হওয়া চাই। যেহেতু প্রীতিলতা নিয়ে আমার বিস্তর পরিকল্পনা রয়েছে, সেহেতু এক্ষেত্রেও আমি শুটিং স্পটে থাকব। আর সর্বশেষ হলো, সিনেমা তো একটি টিম ওয়ার্ক। শুধু কস্টিউম নিয়ে ভাবলেই হবে না, আর্ট ডিরেকশন কে দিচ্ছে, লাইটটা কেমন হচ্ছে, এগুলোও দেখার আছে। এছাড়া আরো একটি কারণ আছে, আমি প্রজন্মের কাছে এমন এক প্রীতিলতাকে পৌঁছে দিতে চাই, যিনি কিনা সাহসী আর প্রেরণার আধার।
সময়ের হিসাবে প্রীতিলতার গল্প তো অনেক আগের। যে কারণে তার পোশাক, চারপাশ সবই তো পুরনো আমলের। সেদিক থেকে প্রীতিলতাকে বড় পর্দায় তুলে আনতে কোনো সমস্যার মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কা আছে কি?
না একেবারেই না। আগেই বলেছি, প্রীতিলতা নিয়ে আমার অনেক পড়াশোনা আছে। তাকে নিয়ে নির্মিত বেশকিছু ছবিও দেখেছি। ফলে মানসপট থেকে তা বাস্তবে তুলে আনতে কোনো সমস্যা হবে না বলেই মনে করছি। আরেকটি বিশেষ দিক হলো, আগে যে ছবি দুটি করেছি, সেখানে আমার সব কাজই ছিল তাঁত কাপড় ঘিরে। কাজেই আমার জন্য এ ছবি করাও খুবই সহজ হবে। প্রীতিলতা তখন যে কাপড় পরিধান করতেন, সেগুলো কিন্তু সবই হাতে বোনা। সেটির জন্য আমি খুবই খুশি। রঙের মধ্যে সে সময়ের রঙকেই প্রাধান্য দেয়ার চেষ্টা করব, তবে তার মধ্যে একটু পরিবর্তন আনব এবং তা সময় ও পরিস্থিতির ওপর যথাযথ সম্মান রেখেই।
বলছিলেন, প্রীতিলতা পড়েই আপনার বেড়ে ওঠা। সেই বেড়ে ওঠার গল্পের যে বিশেষ দিকটি সবসময় আপনাকে অনুপ্রেরণা দেয়—
আমরা প্রীতিলতাকে বিপ্লবী হিসেবে জানি, নারী বিপ্লবী হিসেবে ডাকি। এর বাইরেও তো একজন প্রীতিলতা আছেন। তিনি আসলে খুব বুদ্ধিমান ও ব্যক্তিত্ত্বসম্পন্ন একজন মানুষও ছিলেন বটে। সেই সময় দেখবেন, তার পোশাকের মধ্যে একটি অন্য রকম ব্যাপার ছিল। তিনি তার চুলগুলো কী সুন্দর করেই না বাঁধতেন, ব্লাউজটা, কাপড়টা পরতেন! তার মধ্যে একটি স্টাইল ছিল, ওটাও আমি ফুটিয়ে তুলতে চাই। সে চেষ্টাও করব। আমার চোখে প্রীতিলতা একজন স্টাইল আইকনও বটে।

LEAVE A REPLY

Your email address will not be published. Required fields are marked ( required )

8 + 19 =

The YCC News Japan

we will bring you the latest news from all over the world on Music, Atrists, Fashion, Musical events that you are looking for.

Find Us On Facebook

Contact Information

CHIBA-KEN MATSUDO-SHI
HON CHO 14-20
POST-COD: 271-0091, JAPAN.
Email : info@theyccnews.com
Mobile : 090-2646-7788
(IMO, WhatsApp, Viber, Tangu, Line)
Tel : 050-5532-9330
Tel : 047-394-4858
Fax : 047-394-4868
Skype: ycc-masudo
Skype: ycclivetv.com
YCC JAPAN CO, LTD
Editor : Masud Ahmed
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com