Sunday, 24/9/2017 | 6:43 UTC+0
You are here:  / জাপানের খবর / টপ নিওজ / আহসান মুস্তাফিজ, জাপানের কানাগাওয়া

আহসান মুস্তাফিজ, জাপানের কানাগাওয়া

তাড়া ছিলো, আমি স্টেশনে যাওয়ার জন্য ট্রাফিক বাতির সামনে অপেক্ষা করছিলাম। একটু অবাক হয়ে ঘুরে তাকালাম। বেশ বয়স্ক এক জাপানি ভদ্রলোক আমার দিকে হাসি হাসি মুখে তাকিয়ে আছেন।

যেন এইমাত্র খুব মজার কিছু ঘটে গেছে। আমি বিনীতভাবে বললাম, “কিছু বলতে চান?”

ভদ্রলোক ভাঙ্গা ভাঙ্গা ইংরেজিতে অমায়িক ভঙ্গিতে বললেন, “আপনি ওই বেঞ্চিতে বসে বসে কফি আর স্ন্যাক্স খাচ্ছিলেন। আমি দূর থেকে খেয়াল করলাম, ওঠার সময় আপনার কফির ক্যান আর স্ন্যাক্সের প্যাকেটটি ভুলে ফেলে এসেছেন। দয়া করে স্টেশনে যাবার পথে ওগুলো ফেলে দেবেন?”

আমি ভীষণ লজ্জিত হয়ে তার হাত থেকে জিনিসগুলো নিলাম। এটি ছিলো জাপানে আসার কয়েক সপ্তাহ পরের ঘটনা।

পরবর্তীতে এই ভুলটি আর কখনো করিনি। কিন্তু যখনই ওই বেঞ্চিতে বসেছি ওই ভদ্রলোকের কথা আমার মনে পড়েছে।

জাপানের রাস্তাঘাটগুলো যেন পোস্টকার্ডের ছবির মতো। কোথাও এককণা ধুলো নেই, ময়লা নেই। পথে পথে শোভা পাচ্ছে নাম না জানা হরেক রকম ফুল, দেখলেই মন ভালো হয়ে যায়।

এই পথগুলোতে হেঁটে বেড়াবার সময় আমি প্রায়ই ভাবি, কী করে এই জাতি তাদের দেশটিকে এতটা পরিচ্ছন্ন রাখতে পেরেছে! কেন আমরা আমাদের শহরগুলোকে এরকম পরিচ্ছন্ন করে রাখতে পারছি না?
জাপানে ময়লা ফেলার নিয়ম-কানুন ভীষণ কড়া। সপ্তাহের এবং মাসের নির্দিষ্ট দিনটিতেই কেবল নির্দিষ্ট ধরনের ময়লা ফেলা যায়। দাহ্য এবং অদাহ্য ময়লাগুলোও আলাদা করে নির্দিষ্ট বর্ণের পলিব্যাগে ভরে ফেলতে হয়।

শুরুর দিকে আমার কাছে ব্যাপারটি ভীষণ বিরক্তিকর লাগতো। কিন্ত এখন সহনীয় হয়ে গেছে। শুনেছি, এরা এমন এক ধরনের রোবট আবিষ্কার করেছে যেটি দাহ্য এবং অদাহ্য ময়লাগুলো সনাক্ত করে আলাদাভাবে রাখতে সক্ষম।

সেটার প্রয়োগ শুরু হলে এই ঝামেলাটি আর থাকবে না, এমনটা আশা করা যায়। এখানে প্লাস্টিকের বোতল ফেলার জন্যেও নিয়ম-কানুন আছে। বোতলের গায়ে জড়ানো লেবেল আর বোতলের ঢাকনা খুলে ফেলে বোতলটিকে চাপ দিয়ে চ্যাপ্টা করে তারপর ফেলতে হয়।

একবার ব্যবহার করা বোতল যাতে কোনো অবস্থাতেই দ্বিতীয়বার ব্যবহার করা না হয় সেজন্যই এতোটা সতর্কতা।

জাপানে যখনই সড়কের কোথাও উন্নয়ন কাজের প্রয়োজন হয়, তখন এরা সেই জায়গাটিকে খুব সুন্দরভাবে ঘিরে ফেলে। কাজেই ভেতরের ময়লা বাইরে থেকে একেবারেই চোখেই পড়ে না। আর উজ্জ্বল পোশাক পরিহিত উন্নয়নকর্মীরা তো থাকেনই পথচারীদের সতর্ক করার জন্য।

পুরো ব্যাপারটি এত পরিকল্পনা মাফিক আর দ্রুততার সাথে হয় যে ভীষণ অবাক লাগে! এবার চলুন আমাদের দেশের দিকে তাকাই। সারা বছর ধরেই (বর্ষাকালে আরও বেশি) রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি চলতে থাকে। যেন রাস্তা খুঁড়লেই পাওয়া যাবে ‘সাত রাজার ধন মানিক’!

একবার সুয়ারেজের দল রাস্তা খোঁড়ে, তো একবার গ্যাস লাইনের লোক। দেশে উন্নয়নের এসব কাজে সমন্বয়হীনতার সমস্যাটি ভীষণভাবে দৃশ্যমান আর ভোগান্তির কথা তো বলাই বাহুল্য।
আমরা যদি পরিকল্পিতভাবে আমাদের রাস্তাগুলোর উন্নয়ন কাজ করি, যাতে বার বার না খুঁড়ে একবারেই সবগুলো সমস্যা মেরামত করা যায়, তবেই কেবল এই যন্ত্রণার হাত থেকে নিস্তার সম্ভব।

এজন্য প্রয়োজন সড়ক এবং ইউটিলিটি ডিপার্মেন্টগুলোর নিজেদের মধ্যে সমন্বয় আর উন্নয়নের জন্য বরাদ্দকৃত টাকা নিজেদের পকেটে না পোরার মানসিকতা।

জাপানিজরা ট্রেনে, বাসে বা চলার পথে খাওয়া-দাওয়া করতে পছন্দ করে না। একেবারে দেখিনি তা বলবো না, তবে এ চর্চাটি এখানে নিন্দনীয় এমনটাই জানি। কাজেই এখানকার যানবাহনগুলো থাকে পরিচ্ছন্ন।

আমরাও যদি যানবাহনে চড়ার সময় খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারটি এড়িয়ে চলতে চেষ্টা করি, তাহলে কেমন হয়! আর একান্তই যদি খাওয়া-দাওয়ার প্রয়োজন পড়ে, তবে খেয়ে নিয়ে উচ্ছিষ্টগুলো যানবাহনের ভেতরে বা রাস্তায় ছুঁড়ে না ফেলে নিজের কাছেই রাখি না কেন? পরে না হয় ময়লা ফেলার জন্য নির্ধারিত স্থানে নিয়ে ফেলে দিলাম।

এক সময় আমাদের দেশে হই হই রব উঠলো প্লাস্টিক-পলিব্যাগ হলো পরিবেশ দূষণের মূল কারণ। ব্যাস, আমাদের দেশের হর্তাকর্তারা পলিব্যাগ বানানো আর এর ব্যবহারের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে দিলেন। অনেকটা মাথায় ব্যাথা করলে মাথা কেটে ফেলার মতো।

অথচ তারা এটা বুঝলেন না, পলিব্যাগ মূল সমস্যা নয়। সমস্যাটা হলো- পলিব্যাগ যেখানে সেখানে ফেলাটা। ফলে কিছুদিনের মধ্যেই প্রথমে গোপনে আর পরে প্রকাশ্যে পলিব্যাগের ব্যবহার শুরু হয়ে গেলো। আর অবস্থা রয়ে গেলো আগের মতোই। আমি দেখেছি, জাপানিরা পলিব্যাগটাই প্রধানত ব্যবহার করে। কিন্তু যেহেতু সেটা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা হয়, তাই পরিবেশ দূষণের প্রশ্নই ওঠে না।

একদিন জাপানিজ ল্যাঙ্গুয়েজ স্কুলে ডিস্কাসন সেশনে আমরা বিভিন্ন দেশের কয়েকজন বন্ধু আলাপ করছিলাম জাপান এবং আমাদের নিজেদের দেশগুলোয় রাস্তাঘাটের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়টি নিয়ে।
আমার ধারণা ছিলো, যেহেতু আমাদের দেশের রাস্তাগুলোতে কিছু দূরত্ব পর পর ডাস্টবিন বা ময়লা ফেলার নির্ধারিত স্থান নেই, তাই লোকজন যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলে পরিবেশ নষ্ট করছে।

কিন্তু আমাকে অবাক করে দিয়ে আমার চাইনিজ এবং তাইওয়ানিজ দু’জন বন্ধু বললো, তাদের দেশের রাস্তাগুলোতে কিছু দূর পর পরই ডাস্টবিন আছে, কিন্তু তারপরেও তাদের দেশের রাস্তাগুলো জাপানের মতো পরিচ্ছন্ন নয়।

বরং ডাস্টবিন এবং তার আশেপাশে পড়ে থাকা ময়লার কারণে রাস্তা নোংরা হচ্ছে। আমি ভেবে দেখলাম সত্যিই তো! জাপানের রাস্তাগুলোতে তো আমি কিছুদূর পর পর ডাস্টবিন দেখতে পাই না। এখানে স্টেশন বা কনভিনিগুলোতে ময়লা ফেলার স্থান থাকলেও রাস্তা বা ফুটপাথের পাশে ডাস্টবিন প্রায় চোখেই পড়ে না। এখানকার লোকজন যেহেতু নির্দিষ্ট জায়গায় ময়লা ফেলার অভ্যাসটা রপ্ত করে ফেলেছে, তাই কোন সমস্যা হচ্ছে না।

LEAVE A REPLY

Your email address will not be published. Required fields are marked ( required )

five + twelve =

The YCC News Japan

we will bring you the latest news from all over the world on Music, Atrists, Fashion, Musical events that you are looking for.

Find Us On Facebook

Contact Information

CHIBA-KEN MATSUDO-SHI
HON CHO 14-20
POST-COD: 271-0091, JAPAN.
Email : info@theyccnews.com
Mobile : 090-2646-7788
(IMO, WhatsApp, Viber, Tangu, Line)
Tel : 050-5532-9330
Tel : 047-394-4858
Fax : 047-394-4868
Skype: ycc-masudo
Skype: ycclivetv.com
YCC JAPAN CO, LTD
Editor : Masud Ahmed
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com